ফুলপুর প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার ঢাকুয়া ইউনিয়নে হরিয়াগাই বাজার জামে মসজিদে ওয়াজাহাতি জোড় অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় উলামায়ে কেরামের সাথে তাবলীগ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে দিল্লির সাদ কান্ধলবীর অনুসারীদের দূরত্ব চলে আসছিল। উহা নিরসন কল্পে আজ বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) বাদ যুহর ওই জোড় অনুষ্ঠিত হয়। জানা যায়, তাবলীগকে কেন্দ্র করে হরিয়াগাই বাজার জামে মসজিদের মুসল্লীরা ২ ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। পরে দিনে দিনে বিষয়টি সংঘর্ষের দিকে এগুলে প্রশাসনের স্মরণাপন্ন হয় স্থানীয়রা। এরপর প্রশাসন বিষয়টি মীমাংসার জন্য উলামায়ে কেরামকে দায়িত্ব দেন। এ বিষয়ে জামিয়া আরাবিয়া আশরাফুল উলূম বালিয়ার মুহতামিম মাওলানা ওয়াইজ উদ্দিন বলেন, মানুষের মধ্যে মতানৈক্য নতুন কোন বিষয় নয়। যুগ যুগ ধরে এ মতানৈক্য হয়েছে এবং সমাধানও হয়েছে। আশা করি এটিও সমাধান হবে। আরেকটি কথা হলো, দীনী বিষয়ের ফায়সালা প্রশাসন নয় বরং দিবেন উলামায়ে কেরাম। উলামায়ে কেরামকে বিষয়টি সমাধানের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়ে সাধারণ মানুষকে এ বিষয়ে কোন কিছু বলে বিভ্রান্ত না করার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, এ অঞ্চলের মানুষ আগে যেভাবে বালিয়া মাদরাসাকে অনুসরণ করে চলেছেন, আগে যেভাবে তাবলীগ করতে গিয়ে একই থালে খানা খেয়েছেন আশা করি এখনো সেভাবেই চলবেন। জামিয়া আরাবিয়া আশরাফুল উলূম বালিয়ার শিক্ষা উপদেষ্টা শায়খুল হাদীস আল্লামা এমদাদুল হকের সভাপতিত্বে এসময় আরও বক্তব্য রাখেন, বালিয়া মাদরাসার নায়েবে মুহতামিম মাওলানা আনোয়ার হোসেন হেলাল, তালীমাত মাওলানা আব্দুর রশীদ, বালিয়ার প্রধান মুফতী আব্দুল কাদির আওলাদ, শায়খে বালিয়ার খলীফা মুফতী আজীমুদ্দীন শাহ জামালী, ফুলপুর উপজেলা জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা আতাউল্লাহ ফকির, গোদারিয়া মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত মুহতামিম মাওলানা মুফতী দেলোয়ার হোসেন, মাওলানা মাহমুদুর রহমান মানিক, বালিয়ার শিক্ষক মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ রুশাইদ, মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিসবাহ, মাওলানা মতিউর রহমান, তারাকান্দা হুফফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশনের সভাপতি এ এইচ এম আব্দুস সবুর খান, মুফতী সিরাজুল ইসলাম, তারাকান্দা বড় মসজিদের ইমাম ও খতীব মাওলানা সাঈদ সাইফী, ইত্তেফাকুল উলামা তারাকান্দা শাখার সভাপতি মাওলানা ডা. নুরুল আলম, আলহামরা মহিলা মাদরাসার পরিচালক মাওলানা আব্দুল মালেক, তারাকান্দা থানা মসজিদের ইমাম মাওলানা জহিরুল ইসলাম, ঢাকুয়া ইউপি চেয়ারম্যান ইকরামুল হক তালুকদার, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন মন্ডল, ঢাকুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মজিবুর রহমান ফকির, মাওলানা আবুল হোসেন খান, হাফেজ মাওলানা আনোয়ার সাদেক, মাওলানা কাজী রফিকুল ইসলাম, দারুল ইহসান কাসিমিয়া এক্সিলেন্ট মাদরাসার পরিচালক মাওলানা আব্দুল মান্নান প্রমুখ। সবশেষে বিষয়টি উভয় পক্ষের সাথে সমন্বয় করে দ্রুত নিরসনের লক্ষ্যে জামিয়া আরাবিয়া আশরাফুল উলূম বালিয়ার মুহতামিম মাওলানা ওয়াইজ উদ্দিনকে প্রধান করে ১২ সদস্যবিশিষ্ট একটি এডহক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যান্যরা হলেন, ঢাকুয়া ইউপি চেয়ারম্যান ইকরামুল হক তালুকদার, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন মন্ডল, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মজিবুর রহমান ফকির, তারাকান্দা বড় মসজিদের ইমাম ও খতীব মাওলানা সাঈদ সাইফী, ডা. আব্দুল গণি, নছিম উদ্দিন, ফজলু তালুকদার, শামীম মাস্টার, এনামুল ডাক্তার, আবুল কালাম আজাদ ও সাইফুল ইসলাম।