নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
রংপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নাছিমা জামান ববির একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো উদযাপিত জাতীয় স্থানীয় সরকার দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে উপজেলা চেয়ারম্যান নাছিমা জামান ববির বক্তব্যটি ছিল সাড়া জাগানো। “জাগো বাহে কোনঠে সবায়, শেখ হাসিনা সরকার বারবার দরকার এবং শোন পিতা তোমাকে হত্যা করে যারা ভেবেছিল বুঝি সব শেষ, তারা তো জানে না বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ”, শোন নেত্রী, “তোমাকে ঘরে বেধে রেখে গ্রেনেড মেরে যারা ভেবেছিল বুঝি সব শেষ, তারা তো জানে না শেখ হাসিনা মানেই বাংলাদেশ” উচ্চকন্ঠে এই শ্লোগান ক’টির আবেদন ছিল খুব গভীর। ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, ববি যখন “জাগো বাহে কোনঠে সবায়, শেখ হাসিনা সরকার বারবার দরকার” বলছিলেন, তখন প্রধানমন্ত্রী তাকে ডেকে দ্বিতীয়বার বলার জন্য বলেন। ববি প্রধানমন্ত্রীর আদেশ মেনে দ্বিতীয়বার “জাগো বাহে কোনঠে সবায়, শেখ হাসিনা সরকার বারবার দরকার” শ্লোগানটি ধরেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় সাত মিনিট ববির বক্তব্যটি মুগ্ধ হয়ে শুনছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক জয়ীতা প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ইয়াসিন কবির জয় নিজেদের ভেরিফাইড ফেসবুকে নাছিমা জামান ববির বক্তব্যটি শেয়ার করেছেন। বিভিন্ন ব্যক্তির প্রফাইলে ও বিভিন্ন ফেসবুক পেজে শেয়ার হয়ে এ পর্যন্ত প্রায় দেড় কোটি ভিউয়ার হয়েছে বক্তব্যটি। জানা গেছে, একবার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান এবং দুইবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে সদর উপজেলাকে দেশ সেরা অনুসরনীয় মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্নে বিভোর হন উপজেলা চেয়ারম্যান নাছিমা জামান ববি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের আদর্শের সৈনিক উচ্চ শিক্ষিত নাছিমা জামান ববি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিটি কথা ও কাজের অনুসরণ করেন। সমাবেশে, বৈঠকে ছড়িয়ে দেন সেই কথাগুলো। তার সংবেদনশীল মনে বিচক্ষণতা, অগ্রসর উন্নয়ন চিন্তা ও মানুষের প্রতি শ্রেনিহীন ভালোবাসা থাকায় সদর উপজেলার বঞ্চিত জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন সব সংকট ও সমস্যায়। ঠাকুর পাড়ার হিন্দুপল্লীতে ধর্মীয় উগ্রবাদিদের অগ্নিসংযোগ এবং হামলার ঘটনার পর সহায়তা ও সহমর্মিতার যে ক্ষেত্র সৃষ্টি করেছিলেন তা দেশব্যাপী আলোচিত ছিল। সামান্য রাজস্ব, কয়েক রকম সরকারী বরাদ্দ দিয়ে সদরের কাঁচা সড়ক গুলো পাকা করণ, ব্রিজ, কালভার্ট, পঙ্গু পুর্নবাসন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র বিমোচন, গ্রাম উন্নয়ন, পাড়া উন্নয়ন, নারী উন্নয়ন, বাল্য বিয়ে রোধ, সড়কে ডাকাতি প্রতিরোধ, শিক্ষার প্রসার, ডিজিটাইলেশন, খেলাধুলাসহ ইত্যাদি ক্ষেত্রে উন্নয়নের মাধ্যমে ‘রংপুর সদর স্মার্ট উপজেলা’ নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। সৃষ্টিশীল চিন্তায় কয়েকটি কমিউনিটি ক্লিনিকে বর্ধিত রুম করে প্রসূতি সেবা বিভাগ চালু, তালাকপ্রাপ্ত প্রায় শতাধিক নারীকে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ, গ্রাম ভিত্তিক সমবায় সমিতি গঠন, বেকার যুবকদের ডেকে এনে উন্নত কৃষি ও মৎস্য প্রশিক্ষণের পর ঋণ দিয়ে স্বাবলম্বি হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন। বিশেষ করে বেকার যুবক যুবতিদের কম্পিউটার ও আইটি প্রশিক্ষণে উৎসাহিত ও স্বাবলম্বি করায় বাংলাদেশের ৪৯২ টি উপজেলার মধ্যে তিনি আইসিটি এ্যাওয়ার্ড ২০১৭ অর্জন করে। উন্নয়নে নারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে স্বাবলম্বি করায় পেয়েছেন‘জয়িতা’র স্বীকৃতি। সর্বশেষ বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব পদক ২০২৩ অর্জন করেন তিনি।