Hi

ঢাকা ০৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আজ ভালুকা মুক্ত দিবস

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:২৬:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৫৩ Time View

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
৮ ডিসম্বর, আজ ভালুকা পাক হানাদার মুক্ত দিবস। দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধর পর মেজর আফসার বাহিনীর কাছ ১৯৭১’র এই দিন ভালুকা ক্যাম্পর কয়েক হাজার রাজাকার আলবদর ও পাক সেনারা আত্মসমর্পন কর।
১৯৭১ সনের ৭ মার্চর ভাষন উদ্বুদ্ধ হয় বৃটিশ ভারত সেনাবাহিনীর (অবঃ) সুবেদার আফসার উদ্দীন আহম্মদ ৭১ এর ১৭ এপ্রিল ১ টি মাত্র রাইফেল ও ৮ জন সদস্য নিয়ে ভালুকার মল্লিকবাড়ী বাজারর মুক্তি বাহিনীর দল গঠন করন। পরবর্তীতে ভালুকা থানা দখল করে প্রচুর গােলাবারুদ সংগ্রহ করেন, এর কয়েক দিনের মাথায় কাউরাইদ হতে খীরু নদী দিয়ে ভালুকা থানায় আসার পথে পনাশাইল নামক স্থানে পাক বাহিনীর অস্ত্র ও গােলা-বারুদ সহ একটি নৌকা আটক করে মুক্তিযাদ্ধারা। আফসার উদ্দীনের ৮ সদস্যের দলটি পরবর্তীতে প্রায় সারে ৪ হাজার মুক্তিযােদ্ধার বিশাল বাহিনীত রুপ নেয়। এফ জে ১১ নং সেক্টরর ময়মনসিংহ সদর দক্ষিন ও ঢাকা সদর উত্তর সাব সেক্টর অধিনায়ক মেজর আফসার ব্যাটলিয়ন নাম পরিচিতি লাভ কর। আফসার বাহিনীর যুদ্ধকালীন আহত মুক্তিযােদ্ধাদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য ডাক্তার রমজান আলী তরফদারের তত্বাবধানে ৫ জন ডাক্তার ১০ জন সহকারী চিকিৎসক ও ৪ জন নার্সর সন্বয়ে একটি ভ্রাম্যমান হাসপাতাল পরিচালিত হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এটি কিছুদিন রেডক্রিস সংস্থার সাহায্য আফসার ব্যাটলিয়ান হাসপাতাল নাম চিকিৎসা সেবা প্রদান করে।
৭১ এর ২৫ জুন শুক্রবার সকাল হতে ভালুকা গফরগাঁও সড়কের ভাওয়লিয়াবাজু নামক স্থানে শিমুলিয়া নদীর পাড় পাক বাহিনীর সাথে আফসার বাহিনী সম্মুখ যুদ্ধ লিপ্ত হন। শুক্রবার সারাদিন সারারাত তিন দিক থেকে মুক্তিযােদ্ধাদের আক্রমনের মুখ অনেক পাকসেনা নিহত হয়। পরদিন শনিবার সকাল ১১ টার দিক ঢাকা হতে আকাশ পথ আসা হানাদার বাহিনি হেলিকপ্টার থেকে মুক্তিযাদ্ধাদের অবস্থান লক্ষ করে ভাড়ি মেশিনগানের সোলিং শুরু করে। মুক্তিযােদ্ধারাও হেলিকপ্টার লক্ষ করে পাল্টা ব্রিটিশ এল এম জি’র সাহায্যে গােলা বর্ষন অব্যাহত রাখলে হেলিকপ্টার পিছু হটতে বাধ্য হয়। পরে শনিবার সন্ধ্যার দিকে যুদ্ধক্ষেত্রের ৪ কিলােমিটার উত্তর পশ্চিম ধলিয়া গ্রাম ধলিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হেলিকপ্টার থেকে পাকসেনা নামিয়ে দিল মুক্তিযােদ্ধারা ডিফেন্স ছেড়ে চলে আসেন। এই যুদ্ধ আফছার বাহিনীর তরুন যােদ্ধা অষ্টম শ্রেনীর ছাত্র মল্লিকবাড়ী গ্রামের আঃ মান্নানের মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। মজিবর রহমান সহ আহত হয়ে আরও ৫ জন মুক্তিযােদ্ধা। মুক্তিযােদ্ধারা নদীর পশ্চিম দিক হতে একটানা দুদিন সম্মুখ যুদ্ধ করায় শতাধিক পাক সেনা নিহত হয়। ঐতিহাসিক ওই যুদ্ধের খবর স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র, অল-ইন্ডিয়া রেডিও ও বিবিসি হতে ফলাও করে সম্প্রচার করা হয়। এই যুদ্ধের পর ভালুকা থানা ও বাজার এলাকায় পাক বাহিনীর ক্যাম্পটি শক্তিশালী করা হয়। স্থানীয় মুসলিমলীগ নেতারা এখান গড়ে তােলন একটি বিশাল রাজাকার ও আলবদর বাহিনীর ক্যাম্প। এসব রাজাকার আলবদররা ভালুকার বিভিন্ন গ্রাম দিনের পর দিন মানুষ হত্যা, নারী ধর্ষন,বাড়ীঘর অগ্নি সংযােগ ও লুটপাট চালায়। আফসার বাহিনী যুদ্ধকালীন বিভিন্ন সময় একাধিক বার ভালুকা পাক হানাদার ক্যাম্প আক্রমন চালিয়েছে। এছারা আমলীতলাযুদ্ধ, বল্লা যুদ্ধ, ত্রিশাল,গফরগাঁও,ফুলবাড়ীয়া,শ্রীপুর, মল্লিকবাড়ী, মেদুয়ারী সহ বিভিন স্থানে পাকসেনা ও রাজাকারদের সাথে আফসার বাহিনীর অসংখ্য যুদ্ধ হয়। দীর্ঘ ৯ মাসের বিভিন্ন যুদ্ধে মেজর আফসার উদ্দীনর পুত্র নাজিম উদ্দীন সহ ৪৭ জন মুক্তিযাদ্ধা শহীদ হয়েছেন। মুজিব শতবর্ষ ও সুবর্ণ জয়ন্ত্রী উপলক্ষে ৮ ডিসেম্বর ভালুকা মুক্তদিবসে বিভিন্ন কর্মসূচী আয়ােজন করা হয়েছে।
ভালুকা মুক্ত দিবস উপলক্ষে ভালুকা উপজেলা প্রশাসন এর আয়ােজন র‌্যালি, আলােচনাসভা ও দােয়া মাহফিলের আয়ােজন করা হয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ভালুকায় ১২ দফা ইশতেহার ঘোষণা-এনসিপি প্রার্থী ডা. জাহিদুল ইসলাম

আজ ভালুকা মুক্ত দিবস

Update Time : ০৭:২৬:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
৮ ডিসম্বর, আজ ভালুকা পাক হানাদার মুক্ত দিবস। দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধর পর মেজর আফসার বাহিনীর কাছ ১৯৭১’র এই দিন ভালুকা ক্যাম্পর কয়েক হাজার রাজাকার আলবদর ও পাক সেনারা আত্মসমর্পন কর।
১৯৭১ সনের ৭ মার্চর ভাষন উদ্বুদ্ধ হয় বৃটিশ ভারত সেনাবাহিনীর (অবঃ) সুবেদার আফসার উদ্দীন আহম্মদ ৭১ এর ১৭ এপ্রিল ১ টি মাত্র রাইফেল ও ৮ জন সদস্য নিয়ে ভালুকার মল্লিকবাড়ী বাজারর মুক্তি বাহিনীর দল গঠন করন। পরবর্তীতে ভালুকা থানা দখল করে প্রচুর গােলাবারুদ সংগ্রহ করেন, এর কয়েক দিনের মাথায় কাউরাইদ হতে খীরু নদী দিয়ে ভালুকা থানায় আসার পথে পনাশাইল নামক স্থানে পাক বাহিনীর অস্ত্র ও গােলা-বারুদ সহ একটি নৌকা আটক করে মুক্তিযাদ্ধারা। আফসার উদ্দীনের ৮ সদস্যের দলটি পরবর্তীতে প্রায় সারে ৪ হাজার মুক্তিযােদ্ধার বিশাল বাহিনীত রুপ নেয়। এফ জে ১১ নং সেক্টরর ময়মনসিংহ সদর দক্ষিন ও ঢাকা সদর উত্তর সাব সেক্টর অধিনায়ক মেজর আফসার ব্যাটলিয়ন নাম পরিচিতি লাভ কর। আফসার বাহিনীর যুদ্ধকালীন আহত মুক্তিযােদ্ধাদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য ডাক্তার রমজান আলী তরফদারের তত্বাবধানে ৫ জন ডাক্তার ১০ জন সহকারী চিকিৎসক ও ৪ জন নার্সর সন্বয়ে একটি ভ্রাম্যমান হাসপাতাল পরিচালিত হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এটি কিছুদিন রেডক্রিস সংস্থার সাহায্য আফসার ব্যাটলিয়ান হাসপাতাল নাম চিকিৎসা সেবা প্রদান করে।
৭১ এর ২৫ জুন শুক্রবার সকাল হতে ভালুকা গফরগাঁও সড়কের ভাওয়লিয়াবাজু নামক স্থানে শিমুলিয়া নদীর পাড় পাক বাহিনীর সাথে আফসার বাহিনী সম্মুখ যুদ্ধ লিপ্ত হন। শুক্রবার সারাদিন সারারাত তিন দিক থেকে মুক্তিযােদ্ধাদের আক্রমনের মুখ অনেক পাকসেনা নিহত হয়। পরদিন শনিবার সকাল ১১ টার দিক ঢাকা হতে আকাশ পথ আসা হানাদার বাহিনি হেলিকপ্টার থেকে মুক্তিযাদ্ধাদের অবস্থান লক্ষ করে ভাড়ি মেশিনগানের সোলিং শুরু করে। মুক্তিযােদ্ধারাও হেলিকপ্টার লক্ষ করে পাল্টা ব্রিটিশ এল এম জি’র সাহায্যে গােলা বর্ষন অব্যাহত রাখলে হেলিকপ্টার পিছু হটতে বাধ্য হয়। পরে শনিবার সন্ধ্যার দিকে যুদ্ধক্ষেত্রের ৪ কিলােমিটার উত্তর পশ্চিম ধলিয়া গ্রাম ধলিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হেলিকপ্টার থেকে পাকসেনা নামিয়ে দিল মুক্তিযােদ্ধারা ডিফেন্স ছেড়ে চলে আসেন। এই যুদ্ধ আফছার বাহিনীর তরুন যােদ্ধা অষ্টম শ্রেনীর ছাত্র মল্লিকবাড়ী গ্রামের আঃ মান্নানের মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। মজিবর রহমান সহ আহত হয়ে আরও ৫ জন মুক্তিযােদ্ধা। মুক্তিযােদ্ধারা নদীর পশ্চিম দিক হতে একটানা দুদিন সম্মুখ যুদ্ধ করায় শতাধিক পাক সেনা নিহত হয়। ঐতিহাসিক ওই যুদ্ধের খবর স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র, অল-ইন্ডিয়া রেডিও ও বিবিসি হতে ফলাও করে সম্প্রচার করা হয়। এই যুদ্ধের পর ভালুকা থানা ও বাজার এলাকায় পাক বাহিনীর ক্যাম্পটি শক্তিশালী করা হয়। স্থানীয় মুসলিমলীগ নেতারা এখান গড়ে তােলন একটি বিশাল রাজাকার ও আলবদর বাহিনীর ক্যাম্প। এসব রাজাকার আলবদররা ভালুকার বিভিন্ন গ্রাম দিনের পর দিন মানুষ হত্যা, নারী ধর্ষন,বাড়ীঘর অগ্নি সংযােগ ও লুটপাট চালায়। আফসার বাহিনী যুদ্ধকালীন বিভিন্ন সময় একাধিক বার ভালুকা পাক হানাদার ক্যাম্প আক্রমন চালিয়েছে। এছারা আমলীতলাযুদ্ধ, বল্লা যুদ্ধ, ত্রিশাল,গফরগাঁও,ফুলবাড়ীয়া,শ্রীপুর, মল্লিকবাড়ী, মেদুয়ারী সহ বিভিন স্থানে পাকসেনা ও রাজাকারদের সাথে আফসার বাহিনীর অসংখ্য যুদ্ধ হয়। দীর্ঘ ৯ মাসের বিভিন্ন যুদ্ধে মেজর আফসার উদ্দীনর পুত্র নাজিম উদ্দীন সহ ৪৭ জন মুক্তিযাদ্ধা শহীদ হয়েছেন। মুজিব শতবর্ষ ও সুবর্ণ জয়ন্ত্রী উপলক্ষে ৮ ডিসেম্বর ভালুকা মুক্তদিবসে বিভিন্ন কর্মসূচী আয়ােজন করা হয়েছে।
ভালুকা মুক্ত দিবস উপলক্ষে ভালুকা উপজেলা প্রশাসন এর আয়ােজন র‌্যালি, আলােচনাসভা ও দােয়া মাহফিলের আয়ােজন করা হয়েছে।