
জি এম ভালুকা ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ-
ময়মনসিংহের ভালুকায় উথুরা রেঞ্জের আংগারগাড়া বিট কর্মকর্তা মাজহারুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অসংখ্য অভিযোগ থাকলেও তিনি বহাল তবিয়তেই আছেন। একজন বিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এত এত অভিযোগ থাকার পরেও কি করে তিনি বহাল তবিয়তে থাকেন তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জানা গেছে আংগারগাড়া বিট কর্মকর্তা মাজহারুল হকের বিরুদ্ধে দূর্নীতির অসংখ্য অভিযোগ থাকলেও ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আ ন ম আব্দুল ওয়াদুদ তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্তা নিচ্ছেন না। শেরপুরের একটি নার্সারী থেকে আংগারগাড়া বিটে যোগদান করেই তিনি ত্রাশের রাজত্ব কায়েম করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই বলেন আংগারগাড়া বিট কর্মকর্তা যোগদানের পর থেকেই আংগারগাড়া বিটের বিভিন্ন বন থেকে সেগুন, গজারি ও আকাশমনি গাছ চুরি হতে থাকে। এ সকল গাছ চুরির ঘটনায় এই বিট কর্মকর্তা সরাসরি সম্পৃক্ত বলে জানান স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে এই অসাধু বিট কর্মকর্তা আ’লীগ ক্ষমতায় থাকতে ডাকাতিয়া ইউপি চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ সহ বিভিন্ন আ’লীগ নেতাদের ম্যানেজ করে বনভুমি দখলকারীদের সাথে মোটা অংকের অর্থনৈতিক লেনদেন করে বনভুমি দখল করার সুযোগ করে দেন। অভিযোগ রয়েছে বিট কর্মকর্তাকে মোটা অংকের উৎকোচ দিয়ে চাঁনপুর মৌজার ১৮৫ নং দাগে বনভুমি দখল করে ইউপি চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ একটি বিশাল বহুতল ভবন নির্মান করেন। এছাড়াও একই মৌজার ২২৩ নং দাগে শাখাওয়াত বনভুমি দখল করে একটি বহুতল ভবন নির্মান করছেন। স্থানীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ওই বাড়ি নির্মানের অনুমতি দিতে ১ লক্ষ টাকা নিয়েছেন অসাধু ওই বিট কর্মকর্তা। তাছাড়া শাখাওয়াতের বাড়ির দক্ষিন পাশে একটি নির্মানাধীন বাড়ির কাজ বন্ধ করে মামলার হুমকি দিয়ে ২ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন দূর্নীতিবাজ এই বিট কর্মকর্তা এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। অভিযোগ রয়েছে ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর বিট কর্মকর্তা নিজেকে বিএনপি নেতা পরিচয় দেওয়া সহ প্রভাবশালী বিএনপি নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে কামিয়ে নিচ্ছেন কারী কারী টাকা। বনভুমিতে মাটি কাটার সুযোগ দেয়া, বনভূমি দখল করে বাড়ি ঘর নির্মান ও সরকারী গাছ চুরি করে বিক্রি করা সহ এমন কোন কাজ নাই যা তিনি করেন না। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, বিট অফিসের সামনে বনভুমিতে নিমার্নাধীন এল এস ফুট ওয়ার নামক একটি ফ্যাক্টরির উত্তর পশ্চিম দিকে ২ টি গেইট নির্মানের সুযোগ করে দিতে ৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বিট কর্মকর্তা মাজহারুল হক। এদিকে আংগারগাড়া মৌজার ৫১ নং দাগে গজারী বনের ভিতরে অন্তত ৪০/৫০ টি গজারি গাছ কেটে ভিতরে একটি বিশাল আকৃতির টিনের ঘর নির্মান করেছে এক ব্যক্তি অভিযোগ রয়েছে গজারি গাছ কেটে ওই ঘর নির্মানের সুযোগ দিতে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা উৎকোচ নিয়েছেন তিনি। তার পাশেই বনভূমিতে একটি মাছের প্রজেক্টের সিমানা প্রাচির ও রাস্তা নির্মানের সুযোগ দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন মোটা অংকের টাকা। আংগারগাড়া মৌজার ১২৬ নং দাগে বনভুমিতে তর জুলার বাড়ির পাশে একটি বিশাল টিনের ঘর নির্মানের অনুমতি দিয়ে হাতিয়ে রিয়েছেন মোটা অংকের টাকা। এছাড়াও সুনাখালিতে ৭৭ নং দাগে দুলাল, চানপুরে ১৪০ নং দাগে মনির, সিংলা পূর্বপাড়া রাশেদ নেতার বাড়ির পাশে সুহেল বনভুমিতে ৩ টি ঘর নির্মান করছে।
জানা যায়, আংগারগাড়া বিটের অধিনে লাইসেন্স বিহীন অন্তত ১১ টি করতকল রয়েছে। প্রতিটি করাতকল থেকে এই বিট কর্মকর্তাকে প্রতিমাসে ৩০০০/- করে টাকা দিতে হয়। একাধিক ব্যক্তি জানান, অবৈধ ভাবে গড়ে উঠা প্রতিটি ঘটনার সাথে অসাধু বিট কর্মকর্তা মাজহারুল হক এবং বাগান মালি সোহাগ খান জরিত এবং তারা তা থেকে অনৈতিক সুবিধা নিযে থাকেন। একাধিক অভিযোগ পেলে হয়তো কোন কোন স্থাপনার আংশিক ভেঙ্গেই তাদের দায়িত্ব শেষ করেন। আংগারগাড়া বিট অফিসের বাগানমালি সোহাগ খানের মাধ্যমে সকল লেনদেন হয় বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা। সোহাগ খান বিভিন্ন অসহায় মানুষকে হুমকি ধামকি দিয়ে টাকা নেয় বলেও জানিয়েছে স্থানীয়রা। টাকা না দিলে মামলার হুমকি তো আছেই সেই সাথে অফিসে ধরে নিয়ে শারীরিক নির্যাতনের হুমকিও দেন তিনি। টাকার নেশায় ভোর এই বিট কর্মকর্তার দূর্নীতির যেন শেষ নেই। কেও একটা টিনের ছাপরা ঘর করলেও মাজাহারুল হককে টাকা দিয়ে তার পর ঘর করতে হয় বলে জানিয়েছেন অনেক ভুক্তভোগী। বন বিভাগের অসাধু বিট কর্মকর্তা মাজহারুল হকের বিরুদ্ধে মুখে কেও কিছু বলতে পারেনা মামলার ভয়ে। কেও প্রতিবাদ করলেই তাকে মামলার ভয় দেখান মাজহারুল হক। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে আর কত অপরাধ করলে এই বিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে কর্তৃপক্ষ।